1. chowdhurymultimedia@gmail.com : ৭১ টাইমস্ ডেস্ক : ৭১ টাইমস্ ডেস্ক
  2. gazimamun902@gmail.com : gazi mamun : gazi mamun
  3. info@rizvibd.com : ৭১ টাইমস্ বিশেষ প্রতিবেদক : ৭১ টাইমস্ বিশেষ প্রতিবেদক
  4. newstvbd@gmail.com : timescom :
সংবাদ শিরোনাম :
বর্ষার শুরুতে কুমিল্লা’র সড়কের বেহাল দশা ! জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিতরা অপপ্রচারে লিপ্ত – সাজ্জাদ হোসেন  কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই দেন্নাগরের কবি মুহাম্মদ সোহেল রানা। কবিতাঃ কুমিল্লা নাম। দেন্নাগরের কবি কুমিল্লা”র কবি জননী মুহাম্মদ সোহেল রানা বরুড়া রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংস্থা সৌদি আরব শাখা পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠিত মাদারীপুরে চুরি নিয়ে আলোচনায় তোলপাড়! ফানি ভিডিও তৈরিতে খান বিজয় যে কৌশলে সর্বোচ্চ জনপ্রিয়! মাদ্রাসা-এ-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীতে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপন ৭১টি মামলা ও গ্রেপ্তার ৪৫০ জন হিন্দুদের উপর হামলায় চুয়েটে এবার চালু হলো সৌখিন চা বাগান উত্তরখানের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তান্ডব কর্মকাণ্ডে তোলপাড়! (১)

“বাবা মা‌র বিচ্ছেদ যে‌দিন” লেখিকাঃ আফরিন শোভা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬৯ Time View

বাবা মা‌র বিচ্ছেদ যে‌দিন———
সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় জজ সা‌হেব মা কে জিজ্ঞাসা করেছিল, “আপনি কাকে চান ? ছেলে কে না মেয়েকে??”
মা তখন তার ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। মে‌য়ে ব‌লে বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।
কাঠের বেঞ্চিতে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা এতিমখানায় রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।
দিন যায়-মাস যায়, এতিমখানাতেই জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে এতিমখানায় থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!
বছর দু’য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল’ইয়ার হবো। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আজ আমি একজন ডিভোর্স ল’ ইয়ার। যারাই আমার কাছে তালাকের জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!

চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই

গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।
সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।
একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাৎ দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।

মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!

ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।
…. কন্যা….
লেখিকাঃ আফরিন শোভা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনলাইন নীতিমালা মেনে আবেদনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল" বেস্ট লাইফ গ্রুপের একটি সহযোগী গণমাধ্যম © All rights reserved © 2020
Site Customized By Md. Farhad Hossain